![]() |
| source: adobe stock |
আমার নাম শিরােমণি নার্জিনারী। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় কুর্তি চা বাগানের নাম শুনেছাে? এই কুর্তিবাগানে আমার বাড়ি। একদিকে দার্জিলিং আর ভূটান, অন্যদিকে কোচবিহার আর বাংলাদেশ। মাঝখানে আমাদের জলপাইগুড়ি জেলা।
পশ্চিমবাংলার সবচেয়ে মজার জেলা জলপাইগুড়ি। এতে চা বাগান অন্য কোনও জেলায় নেই । চা শিল্পে কাজের সূত্রে কত রকম মানুষ এ জেলায় ঘাঁটি গেড়েছে - না দেখলে বিশ্বাস করবে না । চা ছাড়াও ধান , পাট , তামাক আর কমলালেবুর জন্যে এই জেলা বিখ্যাত । মাদারিহাট আর সামসিঙের কমলালেবু খুব মিষ্টি।
শাল , শিশু , অর্জুন , বাঁশ , বেত প্রভৃতি গাছ এজেলায় প্রচুর জন্মে । খনিজ সম্পদের মধ্যে চুনাপাথরই প্রধান।
জানাে তাে , ঘন নিবিড় বনভূমির জন্যে আমাদের জেলার দেশজোড়া সুনাম। গরুমারার নাম শুনেছাে ? জলদাপাড়ার নাম ? আরাে আছে সবুজ বন । চিলাপাতা , রাজাভাত খাওয়া , বক্সা।
তুমি যদি ময়নাগুড়ি থেকে মালবাজার যাও , পথেই পাবে গরুমারা । কী সবুজ জঙ্গল । দেখবে ঘননীল ময়ূর চড়ে বেড়াচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে । দেখবে বানর আর হনুমান লাফাচ্ছে গাছে গাছে । গরুমারার আসল আকর্ষণ এসব নয় । আছে বুনাে হাতি — রাজার মতাে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক।
জলদা পাড়ার এক শিংওয়ালা গন্ডার দেখতে দারুন । একবার কাছে পেলে আদর করতে ইচ্ছে করবে।
রাজাভাতখাওয়া আলিপুর দুয়ারের খুব কাছে । তারপরেই বক্সা । এখানকার চিতাবাঘ একবার চোখে দেখলে জীবনে ভুলবে না।
চিলাপাতার জঙ্গল সবচেয়ে সবুজ আর নিবিড় । এখানকার মাটিতে সূর্যের আলাে পড়ে না । এখানেও দেখা পাবে অনেক অনেক হাতির ।
এছাড়া কালচিনি , বিন্নাগুড়ি , বানার হাট , মেটেলি , গয়েরকাটা , ফালাকাটা , ধূপগুড়ি এ জেলার প্রধান আকর্ষণ । জলপাইগুড়িতে অনেক নদী । তিস্তা , জরদা , আংড়াভাষা , মূর্তি , রাঙাতি , জলঢাকা — আরাে কত নাম।
জলপাইগুড়িতে অনেকরকম জনজাতির বাস । বাঙালি ছাড়াও রয়েছে ওরাওঁ , সাঁওতাল , মেচ , গাঢ়ো , গােখা , রাভা আর টোটো।
মাদারিহাটের কাছে টোটোপাড়া । টোটোরা প্রায় লুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল । সরকার এদের বংশবৃদ্ধির দায়িত্ব নিয়েছে । এদের জীবনধারা সভ্য মানুষদের চেয়ে আলাদা।
তােমরা যদি আসাে কোনও দিন , তােমাদের নিয়ে যাবাে টোটো পাড়ায়।
কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান
জেলা — জলপাইগুড়ি
জেলা সদর — জলপাইগুড়ি
এলাকা —৬২২৭ বর্গ কিমি
মােট জনসংখ্যা —৩৪০৩২০৪
পুরুষ —১৭৫৩২৭৮
নারী –১৬৪৯৯২৬
জনসংখ্যার ঘনত্ব -৫৪৬


0 Comments